মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫

প্রকৃত শিক্ষার গুরুত্ব

যখন কোনো ইলেকট্রিক বাল্ব জ্বলে না, তখন সেটা অকেজো বলেই ধরা হয়। কিন্তু যখনই আপনার সামনের বাল্বটি জ্বলে উঠবে তখনই সেই আলোয় আপনাকে দেখা যাবে। আপনি দেখতে কেমন তখনই সেটা বোঝা যাবে। আপনাকে দেখতে যতই ভালো হোক না কেন, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকলে আপনাকে দেখাই যাবে না। একজন শিক্ষক এবং ছাত্রের সম্পর্কটাও অনেকটা সেই রকম। শিক্ষক নিজে যতই জ্ঞানী হোন না কেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যদি বিবেক-বুদ্ধি-মেধা ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম না হন তবে সব প্রচেষ্টাই বৃথা। ছাত্র-ছাত্রীদের বাস্তব-জীবনে স্বাবলম্বী ও সফল হবার উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই পেশা হিসাবে শিক্ষকতার সার্থকতা। দেশের আগামী প্রজন্মকে মানুষ হিসেবে উন্নতি ও সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়াই প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, “আমাদের শিক্ষার মধ্যে এমন একটি সম্পদ থাকা চাই যা কেবল আমাদের তথ্য দেয় না, সত্য দেয়; যা কেবল ইন্ধন দেয় না, অগ্নি দেয়।”
স্কুল-কলেজে যে যতটা পড়াশোনা করেছে তার ঠিক ততটাই জ্ঞান আছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে যখন কেউ এক লাইন বাংলা বা ইংরেজি সঠিকভাবে লিখতে পারে না, তখন এই প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূন্য বলেই মনে হয়। উচ্চশিক্ষিত বলতে যা বোঝায় তাতে কতজন রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র বসু বা স্বামী বিবেকানন্দের মতো মেধা, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার অধিকারী হতে পেরেছেন সেটা একটা বড় প্রশ্ন। বাস্তব জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে অনেকেই সঠিক পথে চলতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে বিপথে পরিচালিত হয়। কেননা কি করে সঠিক পথে সফলভাবে চলতে হয় সেটাই হয়তোবা তাদের জানা নেই। অথবা নিজ নিজ সংকীর্ণ মানসিকতা, নির্বুদ্ধিতা ও বিবেক বোধের অভাবের ফলে খুব সহজেই তারা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে যায় যা অনেক ক্ষেত্রেই সবার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, প্রয়াত ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের মতে, “মেধাবী হয়ে গর্ব করার কিছু নেই, কারণ শয়তানও কিন্তু মেধাবী হয়। মনুষ্যত্ব ও সততা না থাকলে সে মেধার কোন মূল্য নাই।”
মুখস্থবিদ্যা স্মৃতিশক্তির পরিচয় হলেও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। যে জ্ঞান সারাজীবন কাজে লাগে এবং মানুষকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় সেটাই প্রকৃত জ্ঞান - যা আমাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়ে ওঠে। চাণক্যের মতে, “খাবার যতই দামি হোক - পচে গেলে যেমন তার কোন মূল্য থাকে না, ঠিক তেমনি শিক্ষা যতই থাকুক, মনুষ্যত্ব না থাকলে সেই শিক্ষার কোন দাম নেই।” নিজ নিজ সৃজনশীল চিন্তাধারা এবং বিদ্যা-বুদ্ধির সমৃদ্ধিই মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু প্রথাগত শিক্ষায় অনেক ক্ষেত্রেই জ্ঞান শুধু মাত্র কাগুজে সার্টিফিকেটের বেড়াজালে আজীবন আবদ্ধ হয়ে থেকে যায় - বদ্ধ জলাশয়ে আবদ্ধ মাছের মতো সমুদ্রের সন্ধান কখনোই পায় না। আইজাক নিউটন একদা বলেছিলেন, “যা আমাদের জানা, তা এক ফোঁটা; যা অজানা, তা এক মহাসাগর।” কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থে কিছুই জানে না তাদের ধারণা হতেই পারে যে তারা যা জানে সেটাই শেষ কথা। এরপর আর জানার ও শেখার কিছুই বাকি নেই। যে যতই জানুক না কেন, বাস্তবে জানা ও শেখার কোন শেষ নেই। কথায় আছে, “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।” তাই সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য জানাটা সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই আধুনিক যুগে নব নব প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সাথে সঠিক তথ্য ও জ্ঞানই এনে দিতে পারে সবার জীবনে প্রকৃত সাফল্য, দেখাতে পারে উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সঠিক দিশা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তিনটি অতি পরিচিত প্রবাদের সারকথা

অহংকার পতনের মূল             অহংকারী ব্যক্তি নিজেকে সবার চেয়ে বড় এবং অভ্রান্ত মনে করে। এই অতি-আত্মবিশ্বাসের ফলে সে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখতে পা...