দূরদর্শিতা এবং বিবেকবুদ্ধি ছাড়া জীবনে সঠিক পথ বেছে নেওয়া বা সময়ে সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। অনিচ্ছাকৃত বা স্বেচ্ছাকৃত ভুল করাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনে ভালো কিছু করতে গেলে ঠিক সেটাই করতে হয়— তাতেই নিজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। আমাদের জীবনে এবং সমাজে সমস্যার কোনো শেষ নেই। সমস্যার প্রকৃত সমাধান খুঁজতে গেলে সমস্যাটা আসলে কি, সেটাই আগে ভালোভাবে বোঝা দরকার। সঠিক রোগনির্ণয় করতে না পারলে সফলভাবে চিকিৎসা করা যায় না। তেমনি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে জীবনে সঠিক পথটাই বেছে নিতে হয়। কিন্তু উদ্দেশ্যটাই যদি ভুল হয় তবে নিরুদ্দেশ হবার সম্ভাবনাই বেশি। মূর্খ ব্যক্তি নিজের ক্ষতি করে, চালাক ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি সাধন করে, আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজের উন্নতির সাথে সাথে সবার মঙ্গল নিশ্চিত করে। যদিও স্বার্থপর যারা তারা নিজের স্বার্থসিদ্ধির কথাই বেশি চিন্তা করে, তাতে অন্যের কোনও উপকার নাও হতে পারে। নির্বুদ্ধিতা এবং লোভের সমন্বয়ে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভাগ্য। বাস্তব-বুদ্ধির অভাবে অনেকেই সৎ হওয়া সত্ত্বেও ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, যার ফলস্বরূপ জীবনে ব্যর্থতা আসে। নিজ নিজ দায়িত্ব, কর্তব্য ও দায়বদ্ধতার স্পষ্ট ধারণা না থাকার ফলে কি করতে হবে বা কি করা উচিত নয়, সেই সম্বন্ধে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
জীবনে সফল হতে হলে নিজের পথ নিজেকেই বেছে নিতে হয়, যাতে কিনা অন্যকে পরে দোষারোপ করার কোন অবকাশ না থাকে। নিজের সব ভুল সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজেকেই নিতে হবে এবং যথা সময়ে তা সংশোধন করে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেটা দেখা উচিত। সাফল্য একদিনে আসে না। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যাতে ভবিষ্যতের ভিতকে শক্তিশালী করতে পারে, সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। আলোর অনুপস্থিতিই হল অন্ধকার। অন্ধকারের সমালোচনা না করে, আলো জ্বালানোই তার একমাত্র প্রতিকার। দিশাহীন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেলেই নিরুদ্দেশ হতে হয়। তাই জীবনে একটি সঠিক উদ্দেশ্য এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে, সময়োপযোগী যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা উচিত, যাতে যথাসময়ে অভীষ্ট ফল লাভ করা যায় । সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে শেষবেলায় আর কিছুই করার থাকে না। জন্ম-মৃত্যু কারো নিজের হাতে নেই, আয়ু ফুরিয়ে গেলে যত টাকাই জমানো থাকুক না কেন, তা কোনো কাজে আসে না। দুনিয়াটা একটা নির্দিষ্ট নিয়মে চলে, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিস্তারের কাছে মানুষের অস্তিত্ব নগণ্য, কিন্তু মানুষের এই সামান্য জীবন শুধু মাত্র বিবেক-বুদ্ধির জোরেই মহার্ঘ হয়ে উঠতে পারে। যা আমাদের হাতে নেই, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দুর্ভাগ্যের কালো মেঘ সরিয়ে আশার আলো নিয়ে আসে। জীবনের অবশিষ্ট পথে যেন আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব, কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে সবাইকে সাথে নিয়ে একসাথে এগিয়ে যেতে পারি — এই লক্ষ্যেই আমাদের ব্রতী হওয়া কাম্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন