মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫

সময়ের সদ্‌ব্যবহার

    সময়ের মূল্য আছে, তাই নিজের এবং অন্যের- কারোরই সময় নষ্ট করা উচিত নয়। কারো আয়ু যদি ৭০ বছর হয় এবং তার অর্ধেক সময়ই যদি সে নিজের অগ্রগতি এবং উন্নতির জন্য কাজে লাগাতে না পারে তবে এক অর্থে তার অর্ধেক জীবনটাই বিফলে যায়। এগিয়ে যাওয়াই জীবন, এবং ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করাটাই স্বাভাবিক। ‘নিজে বাঁচো এবং অন্যকে বাঁচতে দাও’ - সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটা উন্নত সমাজ, রাজ্য ও দেশ গড়ে ওঠে। একটি গাছের চারা লাগিয়ে তার সঠিক পরিচর্যা করলে— জল, সার, সূর্যালোক প্রভৃতি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে প্রকৃতির নিয়মেই তা নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠে। জোর করে টেনে চারাটিকে বড় করা যায় না। তেমনি, মানুষের জীবনও একটি স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলে। অপরিকল্পিতভাবে বেশি তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে গেলে তাতে কোনো লাভ হয় না। সাফল্য হলো সারা বছরের প্রস্তুতির ফল। পরীক্ষার দিন সকালে অ্যাডমিট কার্ড প্রিন্ট করার জন্য কোথায় দোকান খোলা আছে খুঁজতে গেলে পরীক্ষায় না বসতে পারার সম্ভাবনাই বেশি। দূরদর্শিতা ও অধ্যবসায়ের সাথে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারলেই যথাসময়ে সাফল্য পাওয়া যেতে পারে। আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তার পুনরাবৃত্তি যাতে ভবিষ্যতে আর না হয়, তার জন্য নিজেকে সংশোধন করা প্রয়োজন এবং জীবনের কোনো পদক্ষেপই যাতে বিফলে না যায়, সেই দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। সেই জন্য সময় থাকতেই সঠিক লক্ষ্য স্থির করে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে যথাসময়ে তার সুফল পাওয়া যায় এবং পরিকল্পনার অভাবে কোনো কাজ করতে গিয়ে যেন সময় ফুরিয়ে না যায়।

    খরগোশ আর কচ্ছপের গল্পটা আমরা সবাই জানি। খরগোশ মাঝপথে ঘুমিয়ে পড়ার ফলে কচ্ছপ দৌড় প্রতিযোগিতায় জিতে যায়। কিন্তু খরগোশ ঘুমিয়ে না পড়লে হেরে যাবার কথা ছিল না। কেননা ০.১ কিমি/ঘণ্টায় দৌড়লে কচ্ছপের সবার পিছনেই থাকার কথা। ৩-৬ কিমি/ঘণ্টায় দৌড়ে একটি বিড়ালও তার আগে গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তাই বলে বিড়াল বাঘের সঙ্গে পারবে না কেননা ৫-১০ কিমি/ঘণ্টায় দৌড়ে (স্বল্প দূরত্বে তার গতিবেগ ৪০ থেকে ৫০ কিমি/ঘন্টা বা আরো বেশি) বাঘ বিড়ালকে হারিয়ে দেবে। অন্যদিকে হাতির বিশাল আকার তাকে ক্লান্ত না হয়ে দক্ষতার সাথে ১০-১৫ কিমি/ঘণ্টায় দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সাহায্য করে যেখানে স্প্রিন্টাররা (বিড়াল/ বাঘ) তাদের সর্বোচ্চ গতি থাকা সত্ত্বেও ৫ কিলোমিটারের মতো দূরত্বের ইভেন্টে সহনশীলতার অভাবে পিছিয়ে পড়ে। একটা বন্য খরগোশোর গতি দীর্ঘ দূরত্বের জন্য প্রায় একই। কিন্তু স্বল্প দূরত্বে এরা আরও তাড়াতাড়ি দৌড়তে পারে। তবুও সে সবার প্রথম হতে পারবে না কেননা দলের মধ্যে আসল দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ হল উচ্চ সহনশীল (Stamina) জাতের কুকুর। তার গতিবেগ ২০-২৫ কিমি/ঘণ্টা এবং এরা দীর্ঘ দূরত্বে একটানা দৌড়ে সবার প্রথম হবার যোগ্য। কিন্তু এই দলের বাইরে সব থেকে দ্রুতগতি সম্পন্ন প্রাণী হলো পেরেগ্রিন শাহিন (Peregrine Falcon) পাখি। এটি শিকারের জন্য উপর থেকে নিচের দিকে নামার (ডাইভ) সময় ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার (বা তারও বেশি, কখনো কখনো ৩৮৯ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত) বেগে উড়তে পারে। তবে বিভিন্ন শ্রেণিতে দ্রুততম প্রাণীর নাম ভিন্ন- স্থলচর প্রাণী (চারপেয়ে): চিতাবাঘ (Cheetah), যা ঘণ্টায় প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। জলজ প্রাণী: ব্ল্যাক মার্লিন (Black Marlin) বা সেইলফিশ (Sailfish), যা ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তিনটি অতি পরিচিত প্রবাদের সারকথা

অহংকার পতনের মূল             অহংকারী ব্যক্তি নিজেকে সবার চেয়ে বড় এবং অভ্রান্ত মনে করে। এই অতি-আত্মবিশ্বাসের ফলে সে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখতে পা...