অহংকার পতনের মূল
অহংকারী ব্যক্তি নিজেকে সবার চেয়ে বড় এবং অভ্রান্ত মনে করে। এই অতি-আত্মবিশ্বাসের ফলে সে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখতে পায় না এবং অন্যের ভালো পরামর্শ গ্রহণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই অন্ধত্বই তাকে ভুল পথে পরিচালিত করে। অহংকার মানুষকে উদ্ধত ও অসংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে সে আশেপাশের মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে, যা তাকে সমাজ ও বন্ধুহীন করে দেয়। মানুষ যখন একা হয়ে পড়ে এবং তার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়, তখন তার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। শিক্ষার মূল শর্ত হলো বিনয়। অহংকারী ব্যক্তি মনে করে সে সব জানে, তাই তার নতুন কিছু শেখার পথ বন্ধ হয়ে যায়। জ্ঞান ও দক্ষতার এই স্থবিরতা তাকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দেয় এবং ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। ইতিহাস সাক্ষী যে, বড় বড় সাম্রাজ্য বা শক্তিশালী ব্যক্তিরা যখনই নিজেদের অপরাজেয় ভেবে অহংকারে মত্ত হয়েছে, তখনই তাদের পতন শুরু হয়েছে। বিনয় মানুষকে উঁচুতে তোলে, আর অহংকার নিচে টেনে নামায়।
লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু
মানুষ যখন নিজের সামর্থ্য বা যা আছে তাতে সন্তুষ্ট না থেকে অন্যায়ভাবে অন্যের কিছু পাওয়ার বা অতিরিক্ত কিছু ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা করে, তখনই লোভ জন্মায়। এই অতিরিক্ত লালসা মেটাতে গিয়ে মানুষ মিথ্যা, চুরি, প্রতারণা বা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, যাকে বলা হয় পাপ। লোভে পড়ে মানুষ তার বিবেক এবং হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে তখন ন্যায়-অন্যায়ের বিচার না করে কেবল নিজের স্বার্থ দেখে। এই মানসিক বিকৃতি তাকে সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং তাকে মানসিকভাবে অশান্ত ও দেউলিয়া করে তোলে। লোভে পড়ে মানুষ যখন তার মান-সম্মান, বিবেক এবং বিশ্বাস হারায়, তখন সামাজিকভাবে তার এক প্রকার মরণ ঘটে। তার অর্জিত সম্পদ তাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পারে না। অন্যায় লালসা মানুষকে অপরাধের পথে টানে, আর সেই অপরাধই এক সময় তাকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত লালসা তাকে করুণ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
অতি চালাকের গলায় দড়ি
চলাফেরা বা কাজকর্মে বুদ্ধিমত্তা থাকা ভালো, কিন্তু অতি চালাকি বা ধূর্ততা মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয়। অতি চালাক ব্যক্তি মনে করে সে সবাইকে ফাঁকি দিতে পারবে, কিন্তু এই অতি-আত্মবিশ্বাস থেকেই সে ছোটখাটো ভুল করে বসে যা পরে বড় বিপদের কারণ হয়। যারা নিজেকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান মনে করে এবং কূটকৌশলের মাধ্যমে অন্যকে ঠকাতে চায়, শেষ পর্যন্ত তারাই বিপদে পড়ে। যে ব্যক্তি সবসময় কৌশলে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়, একসময় সমাজের কাছে তার আসল রূপ প্রকাশ পায়। ফলে কেউ তাকে আর বিশ্বাস করে না। বিপদে পড়লে সে তখন আর কারও সাহায্য পায় না। অতি চালাক মানুষ অন্যদের জন্য যে ফন্দি বা ফাঁদ পাতে, পরিস্থিতির ফেরফারে অনেক সময় সে নিজেই সেই ফাঁদে পড়ে যায়। অতি বুদ্ধিমত্তা দেখাতে গিয়ে নীতিহীন হওয়া শেষ পর্যন্ত নিজেরই ক্ষতি ডেকে আনে। সরলতা ও সততা চাতুর্যের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই।
(সংগৃহীত)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন