আমরা সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (Social Media) সাথে পরিচিত হলেও পেশাগতভাবে অনেকেই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি না। যে কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হোক বা না হোক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফোটোগ্রাফ এবং খবর থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারি দপ্তর বা সংস্থাগুলো শুরুতে উৎসাহ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুললেও পরবর্তীতে নিয়মিত আপডেট দেয় না, যা কাম্য নয়। আর কিছু না হোক, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কোনো একটি ঘটনা যে ঘটেছিল, তার কোনো বিস্তারিত বিবরণ না পাওয়া গেলে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পরিচায়ক। মোবাইল প্রায় সবারই আছে, কিন্তু কতজন তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে, তা একটি প্রশ্ন। যখন প্রথম Windows OS বাজারে এসেছিল, তখন কম্পিউটার শেখার একটা উৎসাহ লক্ষ্য করা যেত, যেখানে এখন কম্পিউটার ইনস্টিটিউট খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বর্তমানে মোবাইল ও স্মার্ট ডিভাইসের সহজলভ্যতার কারণে মানুষ মনে করে 'সুইচ টিপলেই সব হয়', যার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমেছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি যতই ব্যবহারকারী-বান্ধব হোক না কেন, ব্যবহার করতে না পারলে তা নিছকই দক্ষতার অভাব। স্থান-কাল-পাত্র যাচাই না করে কোনো কিছু বিশ্বাস করাটা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সত্যি ঘটনাও যথাযথভাবে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে যে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি, নতুন আইন বা জনহিতকর প্রকল্পের তথ্য মুহূর্তের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য সংকট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করতে, গুজব প্রতিরোধে এবং সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি কাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত শেয়ার করার মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। এতে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা বা মতামত সরকারকে জানাতে পারে। জনমত জরিপ বা কমেন্টের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ সহজতর হয়। অনেক দপ্তর এখন ফেসবুক বা টুইটারের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ করতে পারে এবং দ্রুত সমাধান দিতে পারে। এটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা বা ট্রাফিক সচেতনতার মতো সামাজিক বিষয়গুলোতে প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা যায়। সামাজিক মাধ্যমের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্ঞানের আলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারি। সমাজের কোথাও কোনো ভালো কাজ হলে তার খবর অবশ্যই সবার জানা উচিত, তার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াটা দায়িত্ববোধের পরিচায়ক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন