মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ব্যর্থতার দায়

রুদ্র সবসময়ই খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। স্কুলে সবাই তাকে ফার্স্ট বয়বলেই চিনত। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে প্রত্যাশামতো ফল করতে পারল না। ফল প্রকাশের দিন সে খুব ভেঙে পড়েছিল। বাড়ি ফিরে সে বলতে লাগল,

— “প্রশ্নগুলো খুব কঠিন ছিল”,

— “স্যাররা ঠিকমতো পড়াননি”,

— “বন্ধুরা আমাকে পড়তে দেয়নি।

তার বাবা চুপচাপ সব শুনলেন। তারপর শুধু বললেন,

— “অন্যকে দোষ দিলে কিছু সময়ের জন্য মন হালকা হয়, কিন্তু নিজের ভুল বুঝতে পারলে জীবন বদলে যায়।

সেই কথাটা রুদ্রের মনে গভীরভাবে আঘাত করল। রাতে সে নিজের পড়ার টেবিলে বসে ভাবতে লাগল। সত্যিই তো, সে গত কয়েক মাস মোবাইলে অনেক সময় নষ্ট করেছে, নিয়মিত পড়াশোনা করেনি, আর কঠিন বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে।

পরদিন থেকেই সে বদলে গেল। সে নিজের ভুলগুলো লিখে রাখল এবং প্রতিদিন সময় মেনে পড়তে শুরু করল। কারও ওপর রাগ না করে নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে শিখল। এক বছর পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সে শুধু ভালো ফলই করল না, স্কুলের সেরা ছাত্রদের একজন হয়ে উঠল। পুরস্কার নেওয়ার সময় রুদ্র বলেছিল, “ব্যর্থতা আমাকে হারায়নি, বরং নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখিয়েছে।

শিক্ষণীয় বার্তা: নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং সেটাই মানুষকে আরও শক্তিশালী ও সফল করে তোলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন