একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল, নাম তার দিয়া। প্রতিদিন রাতে জানলার ধারে বসে সে রূপোলি চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকত। একদিন সে তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল, "দাদু, চাঁদে কি আমাদের মতো বাড়ি বানিয়ে থাকা যায়?"
দাদু হেসে বললেন, "হ্যাঁ রে দিয়া! বিজ্ঞানীরা এখন ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করছেন। তবে চাঁদে বাড়ি বানানো কিন্তু আমাদের পৃথিবীর মতো এত সহজ নয়।"
দিয়া অবাক হয়ে বলল, "কেন দাদু?"
দাদু তখন একটি মজার গল্প বলতে শুরু করলেন:
"জানিস দিয়া, চাঁদে কোনো বাতাস নেই, গাছপালা নেই। আর সেখানে লুকিয়ে আছে তিনটি বড় বড় রাক্ষস!
প্রথম রাক্ষস হলো—ভীষণ গরম আর তীব্র ঠাণ্ডা! যখন রোদ ওঠে, তখন সেখানে এত গরম হয়ে যায় যে জল এক সেকেন্ডে ফুটে যায়। আর যখন রাত হয়, তখন চারপাশ বরফের চেয়েও শত গুণ ঠাণ্ডা হয়ে যায়!
দ্বিতীয় রাক্ষস হলো—মহাকাশের ক্ষতিকর রশ্মি আর পাথর বৃষ্টি! পৃথিবীতে বাতাস আছে বলে ক্ষতিকর আলো বা ওপর থেকে পড়া পাথর আমাদের গায়ে লাগে না। কিন্তু চাঁদে তো বাতাস নেই, তাই টুসটুস করে সারাদিন ওপর থেকে পাথর ঝরে!
তৃতীয় রাক্ষস হলো—চাঁদের ধুলো! ওখানকার ধুলো আমাদের মাটির মতো নরম নয়, কাঁচের টুকরোর মতো ধারালো আর চিমটে। জামাকাপড়ে লাগলে আর ছাড়ানো যায় না।
দিয়া ভয় পেয়ে বলল, "ওরে বাবা! তাহলে মানুষ ওখানে থাকবে কী করে?"
দাদু চোখ টিপে বললেন, "সেখানেই তো আসল মজা! মানুষ তো দমে যাওয়ার পাত্র নয়। বিজ্ঞানীরা একদল 'রোবট জাদুকর' পাঠাবেন চাঁদে। এই রোবটগুলো দেখতে অনেকটা খেলনা ক্রেনের মতো।
ওরা চাঁদে গিয়ে ওখানকার ধারালো ধুলো আর মাটি কুড়াবে। তারপর এক অদ্ভুত জাদুর আঠা দিয়ে বা গরম করে সেই মাটি দিয়ে চাঁদের বুকেই ইট আর পাথর তৈরি করবে! মানুষের জন্য তৈরি হবে একটা শক্ত গোল ঘর, ঠিক যেন একটা বড় ডিমের মতো।"
"আর একটা দারুণ বুদ্ধি আছে জানিস? চাঁদের মাটির তলায় বড় বড় লুকানো সুড়ঙ্গ বা গুহা আছে। ঠিক যেন রাজপ্রাসাদ! বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, ঘরের একটা অংশ ওই গুহার ভেতরেই বানিয়ে ফেলবেন। তাহলে রাক্ষসরা বুঝতেই পারবে না মানুষ কোথায় লুকিয়ে আছে!"
দিয়া হাততালি দিয়ে বলল, "দারুণ তো! কিন্তু দাদু, ওরা খাবে কী? জল কোথায় পাবে?"
দাদু বললেন, "চাঁদের সাউথ পোল বা দক্ষিণ মেরুতে একটা জায়গা আছে যেখানে কখনোই আলো পৌঁছায় না। সেখানে খুব ঠাণ্ডা। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন, সেখানে মাটির নিচে প্রচুর বরফ লুকিয়ে আছে। মানুষ সেই বরফ তুলে এনে গলিয়ে জল বানিয়ে নেবে। আর সেই জল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি হবে আমাদের নিঃশ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন!"
দিয়া চাঁদের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল, "তার মানে দাদু, আমি যখন বড় হব, তখন আমিও চাঁদের ওই ডিমের মতো বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারব?"
দাদু দিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "নিশ্চয়ই পারবি! তখন তুই চাঁদের জানলা দিয়ে আমাদের এই নীল পৃথিবীকে দেখবি আর বলবি—'বাহ্! মানুষের বুদ্ধি সত্যিই চমৎকার!'"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন