সমাজে দুর্নীতি বা corruption-এর সত্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। সুযোগ যেখানে, দুর্নীতি সেখানে। জন্মগতভাবে হয়তবা কেউ রাজা হরিশচন্দ্র হয়ে জন্মাননি, সেটা সত্যি কথা। তাই অভাবে, অনটনে, স্বভাবে, লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতির ফাঁদে পা রাখতে কেউ পিছপা হয় না। কিন্তু জনপ্রতিনিধি, জনসেবক ও জনগণ এক কথা নয়। জনসেবক বা Govt. servantদের দায়িত্ব জনগণকে পরিষেবা প্রদান করা। সেই জায়গায় জনসেবক বা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের টাকাই লুঠ করলে তা উন্নয়নের পরিপন্থি। চোরের স্বভাব চুরি করা - রাজনীতি বা প্রশাসন শুধুমাত্র একটা মাধ্যম। তাই দলমত নির্বিশেষে সর্বপ্রকার দুর্নীতির প্রতিবাদ করা উচিত। কিন্তু শুধু প্রতিবাদ করলেই চোর ধরা পড়ে না। তার জন্য চাই আইন ব্যবস্থার উন্নতি ও স্বচ্ছ নিয়মপ্রণালী - যে সিস্টেমে চুরি নিজে থেকেই ধরা পড়ে যাবে। যে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে সিস্টেমই দেখিয়ে দেবে কোথায় ভুল। সময় থাকতে থাকতে ভুল শুধরে নেওয়াটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করাটা আখেরে সবার ক্ষেত্রে সুখকর নাও হতে পারে, দলবাজি, ধান্দাবাজি, বাটপাড়ি, গুন্ডামি করা এলাকার মাতব্বরদের অস্তিত্ব যেখানে, অরাজকতা সেখানে। এদের দিয়ে আদৌ কোনোদিন জনগণের মঙ্গল হয়েছে কিনা সেটা একটি বিরাট প্রশ্ন। হলেও তা নিজেদের অন্ধকার দুর্নীতির জগৎটাকে ঢেকে ফেলার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। নীল শেয়াল সেজে মানুষকে বোকা বানানোর খেলায় এরা সিদ্ধহস্ত। কোনো প্রকার নিয়মের এরা পরোয়া করে না। সুযোগ এবং প্রশ্রয় পেলে তার অসৎ ব্যবহার করার লোকের অভাব না। সুযোগের অপব্যবহার করাটা একটি বদঅভ্যাস। ধান্দাবাজি এবং business management এক কথা নয়। সময়ের সাথে সাথে সব কিছুই বদলে যায়। ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দিতে পারে, বদলে দিতে পারে তার স্বভাবচরিত্র। মানুষ ভুলে যায় তার নিজের সত্তা, মানুষ হয়ে উঠতে পারে অমানুষ। আজকের পৃথিবীতে টিকে থাকাটাই একটা কঠিন বাস্তবতা। তাই চুরি করে বড়োলোক হবার লোভ সকলে সামলাতে পারে না।
যে-কোনো প্রকার সমস্যার সমাধান করতে গেলে প্রথমে সমস্যাটা কী সেটাই আগে ভালোভাবে বোঝা দরকার। তারপর তার সম্ভাব্য সমাধান কিকি হতে পারে সেটা দেখা দরকার। সেই সমাধান কী করে করা যেতে পারে, তাও জানা থাকতে হবে। প্রশ্ন হলো:
১) দুর্নীতি প্রতিরোধে কিকি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
২) দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের কী করা উচিত?
৩) জনগণ কী ভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারে?
এই দুর্নীতির ভাইরাস বা ক্যান্সারকে প্রতিহত করার সঠিক উপায় যতদিন না বের করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন প্রকৃত অর্থে সকলের বিশ্বাস অর্জন করে, সকলকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও দশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে অগ্রগতি সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
দুর্নীতির ভাইরাস
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও আত্মনির্ভর ভারতের পথচলা
বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সামনে এক গভীর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে । ইস...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন