ত্রিপুরার একটি ছোট্ট শহরে থাকত দুই বন্ধু—অর্ণব আর রিয়াজ। দুজনেই ক্রিকেট পাগল। স্কুল ছুটির পর মাঠে ব্যাট-বল নিয়েই তাদের দিন কাটত। অর্ণব ছিল দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান, আর রিয়াজ ছিল দলের সেরা বোলার। তাদের স্বপ্ন ছিল একদিন বড় ক্রিকেটার হওয়া।
সেই বছর স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তাদের স্কুল ফাইনালে উঠল। পুরো শহরে উত্তেজনা। মাঠের চারপাশে ছাত্র, শিক্ষক আর অভিভাবকদের ভিড়। সবাই আশা করছিল, এবার ট্রফি তাদের স্কুলেই আসবে।
ফাইনালের দিন প্রতিপক্ষ দল প্রথমে ব্যাট করে ১৪৫ রান তুলল। লক্ষ্য খুব কঠিন না হলেও চাপ ছিল প্রচণ্ড। ওপেনাররা দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় দলের অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। তখন অর্ণব মাঠে নামে। সে একের পর এক সুন্দর শট খেলতে লাগল। দর্শকরা হাততালি দিয়ে চিৎকার করছিল।
কিন্তু অপর প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা টিকতে পারছিল না। একসময় ১৮ বলে দরকার ৩০ রান। সবাই অর্ণবের দিকেই তাকিয়ে। ঠিক তখনই সে একটি বড় শট মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে গেল।
মাঠ নিস্তব্ধ।
ডাগআউটে ফিরে এসে অর্ণব রাগে ব্যাট ছুঁড়ে ফেলল। সে ভাবল, “আমিই যদি না পারি, তাহলে দল আর জিতবে কীভাবে?”
কিন্তু রিয়াজ তার
পাশে এসে শান্ত গলায় বলল,
— “ক্রিকেট একার খেলা না, বন্ধু। এখনও ম্যাচ শেষ হয়নি।”
শেষ দুই ওভারে রিয়াজ আর ছোটখাটো গড়নের এক চুপচাপ ছেলে সুমন ব্যাট করতে নামে। কেউ তাদের উপর ভরসা করছিল না। কিন্তু তারা ধীরে ধীরে রান তুলতে লাগল। শেষ ওভারে দরকার ৮ রান।
প্রথম বলে এক রান।
দ্বিতীয় বলে দুই রান।
তৃতীয় বলে ডট বল।
এখন ৩ বলে দরকার ৫ রান। মাঠে টানটান উত্তেজনা।
চতুর্থ বলে সুমন দুর্দান্ত একটি চার মারল। পুরো মাঠ চিৎকারে ফেটে পড়ল।
এখন শেষ ২ বলে দরকার মাত্র ১ রান।
পঞ্চম বলে সুমন বলটাকে আলতো ঠেলে দৌড় দিল। রান সম্পূর্ণ হতেই পুরো মাঠ উল্লাসে ফেটে পড়ল। তাদের স্কুল জিতে গেল।
অর্ণব দৌড়ে গিয়ে রিয়াজ আর সুমনকে জড়িয়ে ধরল। তার চোখে জল।
সেদিন ট্রফি হাতে
নিয়ে তাদের কোচ বলেছিলেন,
— “জীবন আর ক্রিকেট—দুটোই একই রকম। এখানে একা কেউ জেতে না। প্রস্তুতি, ধৈর্য, ধারাবাহিকতা আর দলগত বিশ্বাসই মানুষকে সত্যিকারের বিজয়ী বানায়।”
সেদিন অর্ণব বুঝেছিল, শুধু নিজের সাফল্য নয়, দলের সাফল্যই আসল সাফল্য। আর জীবনে হার মানে শেষ নয়—শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার নামই আসল জেতা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন