সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

নিরাপদ পথের অঙ্গীকার

 

আগরতলা বাজারের কাছে এক সন্ধ্যায় কয়েকজন মানুষ চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলেন। হঠাৎ একজন বললেন,
— “আজকাল রাস্তায় একটু বেরোলেই ভয় লাগে। সবাই যেন খুব তাড়াহুড়োয় থাকে।

পাশে বসা স্কুলশিক্ষক অনিরুদ্ধবাবু মাথা নেড়ে বললেন,
— “তাড়াহুড়ো নয়, আসল সমস্যা হলো অসাবধানতা। একটা মুহূর্তের ভুল অনেক বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

সেই সময় এলাকার কয়েকজন তরুণও সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু দুর্ঘটনার খবর শুনে খুব চিন্তিত ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনায় মানুষজনের মধ্যে নিরাপদ গাড়ি চালানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকেই মনে করছিলেন যে রাস্তায় ধৈর্য, নিয়ম মেনে চলা এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখানো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।

তরুণদের একজন বলল,
— “আমরা যদি নিজেরাই সাবধান না হই, তাহলে শুধু নিজের নয়, অন্যের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

কথাটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলল। এরপর এলাকার ক্লাব, স্কুল এবং বাজার কমিটি মিলে একটি সচেতনতা কর্মসূচি শুরু করল। সেখানে ট্রাফিক নিয়ম শেখানো হলো, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝানো হলো, আর সবাইকে শান্তভাবে গাড়ি চালানোর অঙ্গীকার করতে বলা হলো।

কয়েক মাস পর দেখা গেল, এলাকায় মানুষ আরও সচেতন হয়েছে। অনেক চালক নিজেরাই গতি কমিয়ে চলছেন, পথচারীদের রাস্তা পার হতে সাহায্য করছেন এবং ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হলেও ঝগড়ার বদলে হাসিমুখে সমাধান করছেন।

একদিন সেই চায়ের দোকানে আবার সবাই জড়ো হলো। অনিরুদ্ধবাবু হাসতে হাসতে বললেন,

— “দেখেছো, নিয়ম আর ধৈর্য মেনে চললে রাস্তা শুধু নিরাপদই হয় না, মানুষের মনও সুন্দর হয়ে ওঠে।

সবাই সম্মতিসূচক মাথা নড়াল। তাদের মনে হলো, পরিবর্তন বড় কিছু দিয়ে নয়, ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্ত দিয়েই শুরু হয়।

নৈতিক শিক্ষা: রাস্তায় ধৈর্য, দায়িত্ববোধ এবং নিয়ম মেনে চলা শুধু নিজের জীবন নয়, অন্যের জীবনও নিরাপদ রাখে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন