একদিন স্কুল থেকে
ফিরে রোহন খুব অবাক হয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করল,
— “মা, আমার চুল কোঁকড়ানো কেন? আর বাবার মতো আমার চোখও কালো কেন?”
মা হেসে বললেন,
— “কারণ তোমার শরীরের
ভেতরে একটা বিশেষ রেসিপির বই আছে!”
রোহন চোখ বড় বড়
করে বলল,
— “রেসিপির বই? আমার শরীরের ভেতরে?”
ঠিক তখন পাশের ঘর
থেকে দাদু এসে বললেন,
— “হ্যাঁ রে! সেই
বইয়ের নাম হলো ডিএনএ।”
রোহন আরও কৌতূহলী
হয়ে গেল।
— “ডিএনএ আবার কী?”
দাদু টেবিলের উপর
একটা রান্নার বই রাখলেন।
— “ভাবো, এই বইয়ে যেমন লেখা আছে কীভাবে কেক
বানাতে হবে, তেমনই ডিএনএ তোমার শরীরকে বলে দেয়
কীভাবে তোমার চোখ, চুল, নাক, হাত—সব তৈরি হবে।”
রোহন অবাক হয়ে
বলল,
— “তাহলে আমার শরীর
একটা রোবটের মতো নির্দেশ মেনে কাজ করে?”
— “একদম!” দাদু বললেন। “তোমার শরীরের প্রতিটি ছোট্ট কোষের ভেতরে ডিএনএ থাকে। আর সেই ডিএনএ-তে থাকে হাজার হাজার নির্দেশ।”
রোহন জিজ্ঞেস করল,
— “সব মানুষের ডিএনএ
কি একই রকম?”
দাদু মাথা
নাড়লেন।
— “না। তাই তো কেউ
লম্বা, কেউ খাটো, কারও চুল সোজা, কারও কোঁকড়ানো। এমনকি বিড়াল, কুকুর, আমগাছ—সব জীবেরই আলাদা
ডিএনএ আছে!”
ঠিক তখন বাড়ির পোষা কুকুর টমি দৌড়ে এসে “ভুঁ ভুঁ” করতে লাগল।
রোহন হেসে বলল,
— “তাহলে টমির লেজ
বাঁকা হওয়ার কারণও ডিএনএ?”
— “ঠিক তাই,” দাদু বললেন। “ডিএনএ হলো প্রকৃতির সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার।”
রাতে ঘুমোতে
যাওয়ার আগে রোহন আয়নায় নিজের মুখ দেখে ভাবল,
“ওয়াও! আমার
শরীরের ভেতরে এত বড় গোপন বই লুকিয়ে আছে!”
সেদিন থেকে রোহনের কাছে ডিএনএ আর শুধু কঠিন বিজ্ঞান নয়—এটা হয়ে গেল জীবনের এক আশ্চর্য রহস্যের গল্প।
বিজ্ঞানের মূল ধারণা
ডিএনএ (DNA) হলো আমাদের শরীরের ভেতরে থাকা বিশেষ তথ্য বা নির্দেশের সংগ্রহ। এটি ঠিক করে আমাদের শরীর কেমন হবে—যেমন চোখের রং, চুলের ধরন, উচ্চতা ইত্যাদি। সব জীবের কোষের ভেতরেই ডিএনএ থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন