— “দাদু, উটের পিঠে কুঁজ কেন? আর পেঙ্গুইন সবসময় টাক্সেডো পরে আছে মনে হয় কেন? ক্যাকটাসের গায়ে এত কাঁটা কেন?”
দাদু হেসে বললেন,
— “এইসবই হলো অ্যাডাপ্টেশন বা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার গল্প!”
রোহনের চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
— “মানে?”
দাদু বললেন,
— “চলো, কল্পনার ট্রেনে চেপে পৃথিবীর তিনটি
জায়গায় ঘুরে আসি!”
মরুভূমিতে উটের জীবন
প্রথমে তারা পৌঁছাল বিশাল গরম মরুভূমিতে। চারদিকে শুধু বালি আর বালি। সেখানে একটা উট ধীরে ধীরে হাঁটছিল।
রোহন বলল,
— “এই গরমে ও কেমন
করে বাঁচে?”
উট হেসে বলল,
— “আমার কুঁজে খাবার
থেকে তৈরি চর্বি জমা থাকে। তাই অনেকদিন খাবার না পেলেও আমি চলতে পারি!”
দাদু বললেন,
— “উটের লম্বা পা
তাকে গরম বালি থেকে দূরে রাখে। আর বড় বড় চোখের পাপড়ি বালির ঝড় থেকে চোখ বাঁচায়।”
রোহন অবাক হয়ে বলল,
— “তাহলে উট মরুভূমির
জন্য বিশেষভাবে তৈরি!”
বরফের দেশে পেঙ্গুইন
এরপর তারা গেল বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকায়। সেখানে একদল পেঙ্গুইন হাঁটছিল।
রোহন হেসে বলল,
— “ওদের দেখে তো
পার্টিতে যাওয়ার মতো লাগছে!”
একটা পেঙ্গুইন বলল,
— “আমাদের কালো-সাদা
শরীর শুধু সুন্দর না, খুব কাজেরও!”
দাদু বুঝিয়ে বললেন,
— “উপরে কালো রং
সূর্যের তাপ শোষণ করে শরীর গরম রাখে। আর পানিতে সাঁতার কাটার সময় সাদা পেট নিচ
থেকে শত্রুদের চোখে কম পড়ে।”
রোহন বলল,
— “ওহ! এ যেন বরফের
দেশের গোপন ইউনিফর্ম!”
মরুভূমির কাঁটাওয়ালা গাছ
শেষে তারা আবার গরম জায়গায় এল। সেখানে একটা ক্যাকটাস দাঁড়িয়ে ছিল।
রোহন একটু দূরে সরে বলল,
— “উফ! এত কাঁটা কেন?”
ক্যাকটাস গম্ভীর গলায় বলল,
— “আমার শরীরে অনেক জল জমা থাকে। কাঁটা আমাকে প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচায়।”
দাদু বললেন,
— “আর কাঁটা থাকার
কারণে কম জল বের হয়। তাই ক্যাকটাস শুকনো জায়গাতেও বেঁচে থাকতে পারে।”
রোহন মাথা নেড়ে বলল,
— “তাহলে সব প্রাণী
আর গাছ তাদের নিজের জায়গার জন্য বদলে যায়!”
দাদু হাসলেন।
— “ঠিক তাই। বহু বছর
ধরে যারা পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে, তারাই টিকে আছে।”
সেদিন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রোহন ভাবল—
পৃথিবী আসলে একটা
বিশাল স্কুল, যেখানে প্রকৃতি সবাইকে বাঁচার নতুন নতুন
কৌশল শেখায়।
বিজ্ঞানের মূল ধারণা (Science Concept)
Adaptation (অ্যাডাপ্টেশন) হলো এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা পরিবর্তন, যা কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদকে তার পরিবেশে সহজে বাঁচতে সাহায্য করে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন