অনেক অনেক বছর আগে পৃথিবীতে মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তখন পৃথিবীর রাজা ছিল বিশাল বিশাল ডাইনোসর। কেউ ছিল লম্বা গলার, কেউ আবার ভয়ংকর দাঁতওয়ালা। বন-জঙ্গল, নদী, পাহাড়—সব জায়গাতেই তাদের দাপট।
সেই সময় ছোট্ট এক ডাইনোসর ছিল, নাম তার টিকো। টিকো খুব কৌতূহলী ছিল। সে সবসময় আকাশের দিকে তাকিয়ে নতুন কিছু খুঁজত।
একদিন সন্ধ্যায় টিকো তার মাকে বলল, — “মা, আকাশে ওই উজ্জ্বল জিনিসটা কী? ওটা তো প্রতিদিনের তারার মতো লাগছে না!”
মা একটু চিন্তিত হয়ে বললেন, — “হয়তো বড় কোনো উল্কাপিণ্ড। তবে ভয় পেও না।”
কিন্তু দিন যত গেল, আকাশের সেই আলোর বিন্দু তত বড় হতে লাগল। পাখিরা অস্থির হয়ে উড়ছিল। অনেক প্রাণী জঙ্গলের ভেতরে লুকোতে শুরু করল।
তারপর এল সেই ভয়ংকর দিন।
হঠাৎ আকাশে এক বিশাল আগুনের বল দেখা গেল। “ধুমমম!” করে প্রচণ্ড শব্দে সেটি পৃথিবীতে আঘাত করল। মাটি কেঁপে উঠল। বিশাল ধোঁয়া আর ধুলায় আকাশ ঢেকে গেল। সূর্যের আলো প্রায় হারিয়ে গেল।
টিকো ভয়ে মায়ের পাশে লুকিয়ে পড়ল।— “মা, পৃথিবী এত অন্ধকার কেন?”
মা কাঁপা গলায় বললেন, — “বড় বিপদ এসেছে, টিকো...”
দিনের পর দিন সূর্যের আলো ঠিকমতো আসছিল না। গাছপালা শুকিয়ে যেতে লাগল। খাবার কমে গেল। বিশাল ডাইনোসরদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ল।
কিন্তু ছোট কিছু প্রাণী—যেমন ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পোকামাকড় আর মাটির নিচে থাকা জীবেরা—ধীরে ধীরে টিকে গেল। অনেক বছর পরে পৃথিবী আবার নতুনভাবে ভরে উঠল গাছপালা আর নতুন প্রাণীতে।
আর সেই দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তনের পর একদিন পৃথিবীতে এল মানুষ।
আজ আমরা যখন ডাইনোসরের হাড় বা জীবাশ্ম খুঁজে পাই, তখন আমরা সেই ভয়ংকর দিনের গল্প জানতে পারি—যেদিন এক বিশাল মহাকাশের পাথর পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিল চিরদিনের জন্য।
বিজ্ঞানের মূল কথা
প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে একটি বিশাল গ্রহাণু (Asteroid) পৃথিবীতে আঘাত করেছিল। এর ফলে ধুলো ও ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়, জলবায়ু বদলে যায় এবং অনেক প্রাণী, বিশেষ করে ডাইনোসর, বিলুপ্ত হয়ে যায়। একে বলা হয় “Mass Extinction” বা গণবিলুপ্তি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন