বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

নেকড়ে থেকে কুকুর

অনেক হাজার বছর আগে পৃথিবীতে মানুষের পাশে কোনো কুকুর ছিল না। তখন গভীর জঙ্গলে থাকত ভয়ংকর ধূসর নেকড়ে। তারা ছিল খুবই বুদ্ধিমান, দ্রুত দৌড়াতে পারত, আর দল বেঁধে শিকার করত। 

একদিন ছোট্ট রোহন তার দাদুর কাছে জিজ্ঞেস করল, — “দাদু, কুকুর কি সবসময় এমন বন্ধু ছিল?”

দাদু হেসে বললেন, — “না রে! আজকের আদুরে কুকুরদের পূর্বপুরুষ ছিল ভয়ংকর নেকড়ে!

রোহন অবাক হয়ে বলল, — “তাহলে তারা মানুষের বন্ধু হলো কীভাবে?”

দাদু গল্প শুরু করলেন।

অনেক অনেক বছর আগে মানুষ আগুন জ্বালিয়ে গুহার কাছে থাকত। শিকার করে খাবার আনত। সেই খাবারের গন্ধ পেয়ে কিছু নেকড়ে দূর থেকে মানুষের আস্তানার কাছে আসত। তারা মানুষের ফেলে দেওয়া হাড় আর খাবারের টুকরো খেত।

কিন্তু সব নেকড়ে একরকম ছিল না। কিছু নেকড়ে খুব রাগী ছিল, তারা মানুষ দেখলেই গর্জন করত। আবার কিছু নেকড়ে একটু শান্ত স্বভাবের ছিল। তারা দূরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ খাবার খেত।

মানুষও লক্ষ্য করল, শান্ত নেকড়েগুলো আক্রমণ করছে না। তাই মানুষ তাদের পুরোপুরি তাড়াত না। ধীরে ধীরে সেই শান্ত নেকড়েরা মানুষের আশেপাশে বেশি থাকতে শুরু করল।

এক রাতে হঠাৎ জঙ্গলের দিক থেকে ভয়ংকর শব্দ এল। একটা বুনো ভালুক গ্রামের দিকে আসছিল। তখন কাছাকাছি থাকা কয়েকটি নেকড়ে জোরে জোরে ডাকতে লাগল। মানুষ শব্দ শুনে জেগে উঠল এবং আগুন নিয়ে ভালুকটাকে তাড়িয়ে দিল।

মানুষ বুঝল, এই নেকড়েরা কাজে লাগতে পারে!

তারপর থেকে মানুষ তাদের একটু খাবার দিতে শুরু করল। নেকড়েরাও মানুষের কাছে নিরাপদ অনুভব করতে লাগল। বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে শান্ত আর বন্ধুসুলভ নেকড়েরাই মানুষের কাছে থাকতে পারল। তাদের বাচ্চারাও শান্ত স্বভাব নিয়ে বড় হলো।

ধীরে ধীরে তাদের চেহারাও বদলাতে শুরু করল। কারও কান নরম হয়ে গেল, কারও লেজ বাঁকলো, কেউ ছোট আকারের হলো। আর একসময় সেই নেকড়ের বংশ থেকেই জন্ম নিল আজকের লেজ নাড়া বন্ধুসুলভ কুকুর।

রোহন হেসে বলল, — “তাহলে কুকুর আসলে মানুষের অনেক পুরনো বন্ধু!

দাদু মাথা নেড়ে বললেন, — “হ্যাঁ। বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসই তাদের বদলে দিয়েছে।

রোহন তখন পাশের কুকুরটাকে আদর করে বলল, — “তুমি তো আসলে ছোট্ট এক নেকড়ে!

কুকুরটা খুশিতে লেজ নেড়ে ভুঁ ভুঁকরে উঠল।

বিজ্ঞানের মূল কথা

যে প্রাণীরা মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছিল, তারাই ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকেই বলে “Domestication” বা গৃহপালন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন