দিদা হেসে বললেন, “না রে! কিছু তারা তাদের জীবনের শেষে এমন এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটায়, যা পুরো মহাবিশ্বকে আলোয় ভরিয়ে দেয়। তাকে বলে সুপারনোভা।”
অর্ণবের চোখ কৌতূহলে বড় হয়ে গেল। “সুপারনোভা আবার কী?”
দিদা বললেন, “ভাব, একটি বিশাল তারা কোটি কোটি বছর ধরে নিজের ভেতরে শক্তি জমিয়ে রাখছে। সে আলো দিচ্ছে, তাপ দিচ্ছে, আর নিজের জ্বালানি ব্যবহার করছে। কিন্তু একসময় তার জ্বালানি ফুরিয়ে আসে।”
“তারপর?” অর্ণব উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“তারপর সেই তারা আর নিজের ভার সামলাতে পারে না। হঠাৎ এক ভয়ংকর কিন্তু সুন্দর বিস্ফোরণ ঘটে। মনে হয় যেন আকাশে সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে! এই বিশাল বিস্ফোরণই হলো সুপারনোভা।”
অর্ণব আকাশের দিকে তাকিয়ে কল্পনা করতে লাগল এক বিশাল উজ্জ্বল আলোর ঝলক।
দিদা আবার বললেন, “কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। সেই বিস্ফোরণে তারার ভেতরের নানা উপাদান চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই মহাজাগতিক ধুলো আর গ্যাস থেকেই পরে নতুন তারা, নতুন গ্রহ, এমনকি জীবনের জন্য দরকারি উপাদানও তৈরি হতে পারে।”
অর্ণব অবাক হয়ে বলল, “তাহলে আমাদের শরীরের কিছু উপাদানও কি কোনো পুরোনো তারার কাছ থেকে এসেছে?”
দিদা মুচকি হেসে বললেন, “বিজ্ঞানীরা তাই মনে করেন। আমরা সবাই এক অর্থে তারার ধুলোরই অংশ!”
সেদিন রাতে অর্ণব আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল, একটি তারা তার জীবনের শেষ মুহূর্তেও মহাবিশ্বকে কত বড় উপহার দিয়ে যায়। তার শেষ আতশবাজি থেকেই আবার নতুন কিছুর শুরু হয়।
মূল বৈজ্ঞানিক ধারণা
সুপারনোভা হলো একটি বিশাল তারার জীবনের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া শক্তিশালী বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ শক্তি, গ্যাস এবং বিভিন্ন উপাদান মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে নতুন তারা ও গ্রহ তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন