মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

লুকোচুরির চ্যাম্পিয়ন পেপার মথ

 
রিনি ছিল খুব কৌতূহলী একটি মেয়ে। একদিন সে তার বিজ্ঞান বইয়ে একটি অদ্ভুত পোকা দেখলপেপার মথ। তার ডানায় কালো-সাদা দাগ ছিল, যেন গোলমরিচ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রিনি ভাবল, “একটা ছোট্ট মথকে নিয়ে এত কথা কেন?”

সেই রাতে স্বপ্নে সে পৌঁছে গেল অনেক বছর আগের একটি বনে। সেখানে গাছের গায়ে ছিল হালকা রঙের ছাল। পেপার মথদের বেশিরভাগই ছিল হালকা রঙের। তারা সহজেই গাছের গায়ে মিশে যেত।

একটি মথ হেসে বলল, “দেখো, আমাকে খুঁজে পাওয়া কত কঠিন!

ঠিক তখনই একটি ক্ষুধার্ত পাখি উড়ে এল। সে গাছের গায়ে বসে থাকা মথদের খুঁজতে লাগল। যেসব মথের রং গাছের ছালের সঙ্গে মিলছিল না, তাদের পাখি সহজেই দেখে ফেলল। কিন্তু যাদের রং মিলেছিল, তারা নিরাপদে রইল।

কিছু বছর পরে আশেপাশে অনেক কারখানা তৈরি হলো। ধোঁয়া ও কালো কণায় গাছের ছাল ধীরে ধীরে গাঢ় রঙের হয়ে গেল।

এবার সমস্যা হলো হালকা রঙের মথদের। আগে তারা সহজে লুকোতে পারত, এখন তাদের দেখা যাচ্ছিল স্পষ্টভাবে।

কিন্তু কিছু পেপার মথ ছিল গাঢ় রঙের। আগে তারা কম ছিল, কিন্তু এখন কালো গাছের গায়ে তারা দারুণভাবে লুকিয়ে থাকতে পারত।

একটি গাঢ় মথ বলল, “এখন তো আমরাই লুকোচুরির চ্যাম্পিয়ন!

পাখিরা হালকা রঙের মথদের বেশি ধরে ফেলতে লাগল। ফলে গাঢ় রঙের মথরা বেশি বেঁচে রইল এবং তাদের বাচ্চার সংখ্যাও বাড়তে লাগল।

ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় গাঢ় রঙের মথের সংখ্যা বেড়ে গেল।

রিনি অবাক হয়ে বলল, “তাহলে কেউ ইচ্ছে করে রং বদলায়নি! যারা পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে, তারাই বেশি বেঁচে ছিল!

মথরা একসঙ্গে বলল, “ঠিক তাই! প্রকৃতি নিজেই বেছে নেয় কারা বাঁচবে এবং বেশি বংশবৃদ্ধি করবে।

ঘুম ভাঙার পর রিনি বুঝতে পারল, প্রকৃতির এই বাছাই প্রক্রিয়ার নামই Natural Selection

বিজ্ঞানের মূল ধারণা

Natural Selection বা প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এমন জীবরা বেশি বেঁচে থাকে ও বেশি বংশবৃদ্ধি করে। ফলে তাদের বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মে আরও বেশি দেখা যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন