সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

মহাজাগতিক জন্মদিনের পার্টি

অনেক, অনেক দিন আগেএতটাই আগে যে তখন কোনো তারা ছিল না, কোনো গ্রহ ছিল না, এমনকি আলোও ছিল নাসবকিছু ছিল একটি ক্ষুদ্র, অবিশ্বাস্য রকমের গরম এবং ঘন বিন্দুর মধ্যে।

একদিন ছোট্ট রূপম আকাশের দিকে তাকিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করল,
—“মা, এই বিশাল মহাবিশ্বের শুরু কীভাবে হলো?”

মা হেসে বললেন,
—“ভাবো তো, মহাবিশ্ব একদিন ছিল একটি ছোট্ট গরম বিন্দু। এত ছোট যে চোখে দেখা তো দূরের কথা, কল্পনাও করা কঠিন!

রূপম অবাক হয়ে বলল,
—“তারপর?”

মা গল্প শুরু করলেন।

সেই ছোট্ট বিন্দুটি যেন নিজের জন্মদিন পালন করতে চাইল। সে ভাবল, “আমি একটা এমন পার্টি দেব, যা আগে কখনো কেউ দেখেনি!

আর তারপরই ঘটল এক আশ্চর্য ঘটনা। হঠাৎ করে সেই বিন্দুটি দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল শক্তি, আলো আর পদার্থ। যেন জন্মদিনের পার্টিতে লক্ষ-কোটি রঙিন বেলুন একসঙ্গে ফুলে উঠছে!

সময় যেতে লাগল। সেই প্রসারিত হওয়া শক্তি থেকে তৈরি হলো ক্ষুদ্র কণা। কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে তৈরি করল পরমাণু। তারপর লক্ষ লক্ষ বছর পরে জন্ম নিল প্রথম তারা।

তারাগুলো জ্বলে উঠল মহাজাগতিক প্রদীপের মতো। কিছু তারা একসঙ্গে জড়ো হয়ে তৈরি করল গ্যালাক্সি। সেই গ্যালাক্সিগুলোর একটিতে জন্ম নিল আমাদের সূর্য। সূর্যের চারপাশে তৈরি হলো পৃথিবীসহ অনেক গ্রহ।

রূপম বিস্ময়ে বলল,
—“তাহলে আমরা সবাই সেই জন্মদিনের পার্টির অংশ?”

মা মাথা নেড়ে বললেন,
—“হ্যাঁ। তোমার শরীরের অনেক পরমাণু একসময় কোনো না কোনো তারার ভেতরে তৈরি হয়েছিল। তাই এক অর্থে আমরা সবাই মহাবিস্ফোরণের সেই বিশাল পার্টির অতিথি!

রূপম আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসল। দূরের তারাগুলো যেন তাকে চোখ টিপে বলছে, “আমরাও সেই পার্টিতে ছিলাম!

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সেই পার্টি এখনো শেষ হয়নি। মহাবিশ্ব আজও প্রসারিত হচ্ছে। অর্থাৎ সেই মহাজাগতিক জন্মদিনের পার্টি এখনও চলছেই!

বিজ্ঞানের মূল ধারণা

বিগ ব্যাং (মহাবিস্ফোরণ) তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত গরম ও ঘন অবস্থা থেকে প্রসারিত হতে শুরু করে। সেই প্রসারণের ফলেই তৈরি হয়েছে তারা, গ্যালাক্সি, গ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত আমরা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন