একদিন দুপুরবেলা রোদে খেলতে খেলতে ছোট্ট রিমি হঠাৎ বলল, “মা, এত গরম কেন লাগছে? সূর্য কি আজ বেশি রেগে গেছে?”
মা হেসে বললেন, “না রে, সূর্য তো প্রতিদিনই আলো আর তাপ পাঠায়। তবে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য আমাদের আকাশে একটা বিশেষ ঢাল আছে।”
রিমির চোখ বড় বড় হয়ে গেল। “ঢাল? সুপারহিরোর মতো?”
“একদম!” মা বললেন। “তার নাম হলো ওজোন স্তর।”
রিমি দৌড়ে ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকাল। “কোথায়? আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না!”
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির বিজ্ঞান কাকু এলেন। তিনি বললেন, “ওজোন স্তর চোখে দেখা যায় না। এটা আকাশের অনেক ওপরে গ্যাসের একটা পাতলা আস্তরণ।”
রিমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওটা কী করে?”
কাকু একটা কালো সানগ্লাস বের করে বললেন, “যেমন এই সানগ্লাস চোখকে রোদ থেকে বাঁচায়, তেমনই ওজোন স্তর পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায়।”
“অতিবেগুনি রশ্মি?” রিমি আবার জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ,” কাকু বললেন। “সূর্য থেকে কিছু রশ্মি আসে যা আমাদের ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে, গাছপালার ক্ষতি করতে পারে, এমনকি অসুখও করতে পারে। ওজোন স্তর সেই খারাপ রশ্মিগুলো আটকে দেয়।”
রিমি একটু ভেবে বলল, “তাহলে ওজোন স্তর না থাকলে আমরা সবাই টোস্টের মতো পুড়ে যেতাম?”
কাকু হেসে বললেন, “হয়তো পুরোপুরি না, কিন্তু পৃথিবীতে জীবন অনেক কঠিন হয়ে যেত।”
পরের দিন স্কুলে রিমি তার বন্ধুদের বলল, “জানো, পৃথিবীর একটা অদৃশ্য সানগ্লাস আছে! সেটা আমাদের সবাইকে রক্ষা করে!”
বন্ধুরা অবাক হয়ে গেল। তখন রিমি আরও বলল, “কিন্তু মানুষ যদি বেশি দূষণ করে, কিছু ক্ষতিকর গ্যাস ওজোন স্তরকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।”
শিক্ষিকা হাসিমুখে বললেন, “দারুণ! আজকের ছোট্ট বিজ্ঞানী হলো রিমি।”
সেদিন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রিমি মনে মনে বলল, “ধন্যবাদ, পৃথিবীর অদৃশ্য সানগ্লাস!”
বিজ্ঞানের মূল কথা
ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ অংশ, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মির বেশিরভাগ অংশ আটকে দেয়। এর ফলে মানুষ, প্রাণী ও গাছপালা নিরাপদ থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন