বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

পৃথিবীর ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি

রিমি খুব কৌতূহলী মেয়ে। একদিন সে তার বিজ্ঞান শিক্ষক দাদুর কাছে জিজ্ঞেস করল, — “দাদু, পৃথিবী কত পুরোনো?”

দাদু হেসে বললেন, — “প্রায় ৪৫০ কোটি বছর!

রিমির চোখ গোল হয়ে গেল। — “এত বড় সংখ্যা আমি কল্পনাই করতে পারছি না!

দাদু তখন টেবিলের উপর একটা গোল ঘড়ি আঁকলেন।

— “চলো, আমরা একটা মজার খেলা খেলি। ভাবো, পৃথিবীর পুরো ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাসকে আমরা মাত্র ২৪ ঘণ্টার এক দিনে ছোট করে ফেললাম।

রিমি উত্তেজিত হয়ে বলল, — “তারপর?”

দাদু বলতে শুরু করলেন— “রাত ১২টায় পৃথিবীর জন্ম হলো। তখন পৃথিবী ছিল আগুনের মতো গরম। চারদিকে শুধু লাভা আর ধোঁয়া।

ভোরের দিকে প্রথম ছোট্ট জীব জন্ম নিল সমুদ্রে।

দুপুর পার হতে না হতেই গাছপালা আর অক্সিজেন বাড়তে লাগল।

রাত প্রায় ১০টার সময় ডাইনোসররা এল পৃথিবীতে।

রিমি হাসল। — “ওরা তো অনেক দেরিতে এসেছে!

— “হ্যাঁ,” দাদু বললেন, “আর রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এক বিশাল মহাকাশ পাথর পৃথিবীতে আঘাত করল। ডাইনোসরদের যুগ শেষ হয়ে গেল।

রিমি চুপচাপ শুনছিল।

দাদু এবার ঘড়ির একেবারে শেষ দিকে আঙুল রাখলেন।

— “আর মানুষ?”

রিমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, — “মানুষ কখন এলো?”

দাদু মুচকি হেসে বললেন, — “রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে!

— “মানে?” রিমি অবাক।

— “মানে, পুরো ২৪ ঘণ্টার পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ এসেছে একেবারে শেষ কয়েক সেকেন্ডে।

রিমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল, — “তাহলে পৃথিবী তো আমাদের থেকেও অনেক অনেক পুরোনো!

দাদু মাথা নাড়লেন। — “ঠিক তাই। তাই পৃথিবীকে ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব। কারণ আমরা এই বিশাল ইতিহাসের খুব ছোট্ট একটা অংশ মাত্র।

সেদিন রাতে রিমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল— “আমরা সত্যিই সময়ের বিশাল সমুদ্রে ছোট্ট এক ফোঁটা!

বিজ্ঞানের মূল ধারণা

Deep Time মানে পৃথিবীর ইতিহাস এত দীর্ঘ যে তা বোঝা কঠিন। তাই বিজ্ঞানীরা কখনও কখনও ৪৫০ কোটি বছরকে ২৪ ঘণ্টার ঘড়ির সঙ্গে তুলনা করেন। এতে বোঝা যায়, মানুষ পৃথিবীতে এসেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন